বার্তা সংস্থা আবনা : অবশেষে সাভার ট্রাজেডির খলনায়ক ও রানা পাজার মালিক সোহেল রানাকে রোববার দুপুরে যশোরের বেনাপোলে গ্রেফতার করেছে এলিট ফোর্স র্যাব। এ সময় তার দুই আশ্রয়দাতাকেও গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ফেনসিডিলসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। সোহেল রানা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ভবন ধসে বিপুল সংখ্যক প্রাণহানির জন্য রানা সম্পূর্ণ দায়ী বলে জানায় র্যাব। তবে রানা ভবন ধসের সঙ্গে সংশিষ্টতা থাকার কথা অস্বীকার করে বলেছের, গার্মেন্ট বন্ধ রাখার জন্য মালিকদের নোটিশ দেয়া হয়েছিল। সাভার পৌর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রানাকে ঢাকায় এনে রোববার বিকালে র্যাব সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন র্যাব মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মজিবুর রহমান, ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান, মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান, ক্যাপ্টেন অভিষেকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
র্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বেলা ১টার দিকে র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক প্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে একটি টিম বেনাপোল পৌর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বরফিল্ড এলাকার একটি বাসা থেকে সোহেল রানা, তার দুই আশ্রয়দাতা শাহ আলম ওরফে মিঠু ও অনিল কুমারকে গ্রেফতার করে। এ সময় সোহেল রানার কাছ থেকে একটি ব্রিফকেস উদ্ধার করা হয়। ওই ব্রিফকেসের ভেতর পাওয়া যায় দুই বোতল ফেনসিডিল, তিনটি মোবাইল সেট, একটি কলম, এক প্যাকেট বেনসন সিগারেট, একপাতা প্রোলক. সেকরিন, প্যানটোনিক্স, ডাইমেরল ট্যাবলেট, একটি ইনহেলার, ৫টি চকলেট, একটি টুপি ও কয়েক জোড়া প্যান্ট-সার্ট। পরে যশোর থেকে র্যাবের হেলিকপ্টারে করে তাদের ঢাকায় আনা হয়। বিকাল ৫টা ২ মিনিটে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে হেলিকপ্টার অবতরণ করে। কড়া পাহারায় তাদের র্যাব সদর দফতরে আনা হয়। পরে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয় রানাসহ ৩ জনকে। এই সময় রানাকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।
র্যাব মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। তিনি জানান, সাভার ট্রাজেডির জন্য সোহেল রানা সম্পূর্ণ দায়ী। ২৪ এপ্রিল সকালে রানা জোর করে শ্রমিকদের ভবনের ভেতরে ঢোকায়।
ঘটনার আগের দিন ভবনের ৩য় তলায় ফাটল দেখার পরও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। তিনি জানান, ভবন ধসের দিন রানা নিচ তলায় তার অফিসে বসা ছিলেন। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করে। তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর ভবন মালিক সোহেল রানা রাজধানী ও আশপাশের জেলাগুলোতে আÍগোপন করেন। গতকাল তিনি ভারতে পালানোর চেষ্টা চালান। সোহেল রানার বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা হয়েছে। রানাকে গ্রেফতারের নির্দেশ আসার পর র্যাবের সব ব্যাটালিয়নকে বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইমারত আইনে তার বিরুদ্ধে সংশিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ অনেক অভিযোগ আছে। তাকে ঢাকা জেলা ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হবে।
যেভাবে আÍগোপন : ২৪ এপ্রিল বিধ্বস্ত ভবনের নিচ তলা থেকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন রানাকে উদ্ধার করে। পরে তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিত্সা নেন। এরপর চলে গেছেন মোহাম্মদপুরে তার বন্ধু শামীমের বাসায়। সেখানে রাত কাটিয়ে চলে যান মানিকগঞ্জে। মানিকগঞ্জে তার আত্মীয় আফজাল শরীফের বাসায় রাত কাটান। ট্রাজেডির ৩য় দিন রানা ফরিদপুর শহরে গিয়ে অনিলের বাড়িতে থাকেন। অনিল তার পূর্ব পরিচিত। পরে তিনি চলে যান যশোরের ঝিকরগাছায় বন্ধু শাহআলম ওরফে মিঠুর কাছে। মিঠুর বাসায় একরাত থাকলেন। মিঠু রানাকে নিয়ে চলে যান বেনাপোলের পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনিরুজ্জামানের বাসায়। সেখান থেকে তার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু তার আগেই র্যাবের হাতে ধরা পড়ে গেলেন সোহেল রানা।